মার্কিন শুল্কনীতি

তিরুপুরের বস্ত্র শিল্প হারিয়েছে ১২ হাজার কোটি রুপির ক্রয়াদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে ভারতের তামিলনাড়ুর তিরুপুরের বস্ত্র রফতানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে ভারতের তামিলনাড়ুর তিরুপুরের বস্ত্র রফতানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলের বস্ত্র খাত প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপির ক্রয়াদেশ হারিয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। খবর দ্য হিন্দু।

শুল্ক কার্যকরের সময় খাতসংশ্লিষ্টদের অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, এতে অনেক রফতানি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে। চাকরি হারাবে হাজারো শ্রমিক। কিন্তু এখনো সে পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

তিরুপুর এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (টিইএ) তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে ভারতীয় বস্ত্র শিল্পে মার্কিন শুল্কের বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। কারণ চলতি বছরের বেশির ভাগ ক্রয়াদেশ শুল্ক আরোপের আগেই দেয়া। বর্তমানে মার্কিন ক্রেতাদের জন্য ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে পণ্য রফতানি হচ্ছে। শুল্কনীতি বহাল থাকলে ২০২৬ সালে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যেসব ইউনিটের রফতানির ৬০-৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিট সর্বোচ্চ দুই-তিন মাস এ চাপ সামাল দিতে পারবে।

তিরুপুরকে ভারতের অন্যতম বড় নিট পোশাক উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ শিল্পাঞ্চলে রয়েছে প্রায় দুই হাজার রফতানিকারক ও ২০ হাজার একক ইউনিট। বছরে এখান থেকে রফতানি হয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি রুপির পণ্য, স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয় আরো ৩০ হাজার কোটি রুপির পণ্য। এ শিল্পে প্রায় ১০ লাখ মানুষ কাজ করেন, যার ৬৫ শতাংশই নারী। ভারতের নিট পোশাক রফতানির প্রায় ৬৮ শতাংশেরই উৎস তিরুপুর।

ইউনিয়ন টেক্সটাইল সেক্রেটারির উদ্দেশে দেয়া এক চিঠিতে টিইএর প্রেসিডেন্ট কেএম সুব্রামানিয়ান জানান, ক্রেতারা এখন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দাবি করছেন, যাতে তারা শুল্কের বোঝা বহন করতে পারেন। পাশাপাশি অনেক ক্রেতা বর্তমান ক্রয়াদেশ ও নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ করছেন। এতে ক্রয়াদেশ বাতিলের হার বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘এ অনিশ্চয়তায় রফতানিকারকরা মারাত্মক তারল্য সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন পরিকল্পনা ও কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর রফতানিকারকদের ঋণ দিতে সতর্কতা দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো। ফলে বিলম্বিত পেমেন্টের কারণে অনেকেই ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।’

কেএম সুব্রামানিয়ান বলেন, ‘দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। মার্কিন শুল্ক আরোপ সাময়িক হলেও এটি রফতানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা। সরকার সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রফতানিকারকরা (এমএসএমই) এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারবে।’

এদিকে তামিলনাড়ুর শিল্পমন্ত্রী টিআরবি রাজা বলেন, ‘আমরা রফতানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো নতুন বাজারে প্রবেশে তাদের উৎসাহ দিচ্ছি। বাজারবৈচিত্র্য আনতে লজিস্টিক ও আর্থিক সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান আসবে। আমরা চাই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাক কেন্দ্র। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ ও সহায়তা প্যাকেজ চালুরও আহ্বান জানাচ্ছি।’

ভারতের শীর্ষ গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক অনিকেত দানি বলেন, ‘মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে বাজার বৈচিত্র্যই ভারতের জন্য টেকসই কৌশল হতে পারে। কিছু রফতানি দেশীয় বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল বাজারের পূর্ণ বিকল্প তৈরি করা কঠিন।’

আরও